ব্রতকথা ১৪৩৩ | Broto Kotha

প্রিন্ট ও ডাউনলোডPrint o download · সরাসরি PDF ডাউনলোড করুন
মূল PDF ডাউনলোডOriginal Panjika PDF
ব্রত, পাঁচালী ও লোকাচার

মূল পঞ্জিকার সম্পূর্ণ ব্রতকথা

সরবরাহকৃত পঞ্জিকার নয়টি পৃষ্ঠা হুবহু স্ক্যানরূপে নিচে দেওয়া হলো। ভাষা বা পৌরাণিক কাহিনি পরিবর্তন করা হয়নি।

মঙ্গলচণ্ডী/জয় মঙ্গলচণ্ডী ব্রতMangalchandi Broto

জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবারে পালনের নির্দেশ, উপকরণ ও ভক্তির মাধ্যমে বিপদমুক্তির কাহিনি।

মূল কথামঙ্গলের দিনে শুচিতা, পূজা, উপবাস এবং ব্রতকথা শ্রবণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

শিবরাত্রির ব্রতকথাShivaratri Broto

চার প্রহরে শিবপূজা, উপবাস ও বিল্বপত্র নিবেদনের মাহাত্ম্য।

মূল কথারাত্রিজাগরণ, সংযম ও শিবনাম স্মরণের প্রতীকী শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

সন্তোষী মাতার ব্রতSantoshi Mata Broto

শুক্রবারের উপবাস, গুড়-ছোলা নিবেদন এবং টক খাবার বর্জনের প্রচলিত বিধি।

মূল কথাসন্তোষ, ধৈর্য এবং সংসারে শান্তির মূল্যকে গল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

ইঁদুরপূজার ব্রতকথাIdur Puja Broto

সংক্রান্তি-ভিত্তিক লোকাচার ও কৃষিজীবনের সঙ্গে যুক্ত কাহিনি।

মূল কথাফসল, সংসার ও জীবজগতের প্রতি সহমর্মিতার লোকবিশ্বাস ফুটে ওঠে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

বিপত্তারিণীর ব্রতBipattarini Broto

আষাঢ়ের শুক্ল তৃতীয়া থেকে নবমীর মধ্যে নির্দিষ্ট শনি বা মঙ্গলবারে পালন।

মূল কথাদুর্গার বিপত্তারিণী রূপের আশ্রয়ে বিপদ থেকে রক্ষার বিশ্বাস প্রধান।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

সত্যনারায়ণের ব্রতকথাSatyanarayan Broto

পূর্ণিমা বা সুবিধাজনক শুভদিনে সত্যনারায়ণ পূজা ও পাঁচালী পাঠ।

মূল কথাসত্য, প্রতিশ্রুতি, প্রসাদ ভাগ এবং অহং ত্যাগের শিক্ষা বারবার আসে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

শনিদেবের ব্রতকথাShani Broto

শনিবার উপবাস, পূজা, দান ও শনিমাহাত্ম্য পাঠের নির্দেশ।

মূল কথাদায়িত্ব, কর্মফল, ধৈর্য ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রতLakshmi Broto

প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা, আলপনা, প্রদীপ ও ব্রতকথা পাঠ।

মূল কথাপরিচ্ছন্নতা, সঞ্চয়, আতিথ্য ও পরিশ্রমকে গৃহলক্ষ্মীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন

লোকনাথবাবার পাঁচালীLoknath Baba Panchali

ভক্তি, আশ্রয় ও দুঃসময়ে লোকনাথবাবার স্মরণের কাহিনি।

মূল কথাসেবা, বিশ্বাস ও মানবিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন
১০

কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতJanmashtami Broto

উপবাস, কৃষ্ণজন্ম স্মরণ, পূজা ও রাত্রিজাগরণের আচার।

মূল কথাভক্তি, ধর্মরক্ষা ও অধর্মের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতীকী পাঠ।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন
১১

রামনবমী ব্রতRam Navami Broto

চৈত্র শুক্ল নবমীতে রামচন্দ্রের জন্মোৎসব, উপবাস ও পূজা।

মূল কথাসত্য, কর্তব্য, সংযম ও আদর্শ জীবনের মূল্য তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন
১২

রাধাষ্টমী ব্রতRadhashtami Broto

ভাদ্র শুক্ল অষ্টমীতে রাধারাধনা ও কৃষ্ণভক্তির ব্রত।

মূল কথানিষ্কাম প্রেম, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ভাব প্রধান।
সম্পূর্ণ পাঠ্য পড়ুন
Selectable HTML Text

সম্পূর্ণ ব্রতকথা: পৃষ্ঠা ১-৯-এর পাঠ্য

সরবরাহকৃত স্ক্যান পঞ্জিকা থেকে বাংলা HTML পাঠ্য তৈরি করা হয়েছে। মূল মুদ্রণ যাচাইয়ের জন্য উপরের Original Panjika PDF বোতামটি রাখা হয়েছে।

পৃষ্ঠা 1: মঙ্গলচণ্ডী বা জয় মঙ্গলবারের ব্রতবিধি ও ব্রতকথা; শিবরাত্রির ব্রতকথা

মঙ্গলচণ্ডী বা জয় মঙ্গলবারের ব্রতবিধি ও ব্রতকথা

ব্রতের নিয়ম-জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবারে এই ব্রত পালন করিতে হয়। পুরোহিত দ্বারা মঙ্গলচণ্ডীর পূজা করাইয়া

ব্রত শেষে ব্রতকথা শ্রবণ করিতে হয়। .

ব্রতের উপকরণ--সতেরোটি গোটা সুপারি, ধান, দূর্বা, ফল-বেলপাতা, পৈতা, পাকা আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

ধ্যান-ওঁ যথা ললিতকান্তখ্যা দেবী মঙ্গলচণ্ডিকা। বরদাভয়হস্তা চ দ্বিভুজা গৌরদেহিকা। রক্তপদ্মাসনাস্থ চ

মুকুটোজবলমণ্ডিতা। রক্ত কৌশেয় বস্তু চস্মিতবস্ ুভাননা। নবযৌবনা সম্পন্ন চার্বঙ্গী ললিতপ্রভা।

মন্ত্র হ্ৰীং মঙ্গলচণ্ডিকায়ৈ দেব্য নমঃ। পরে ললিতকান্তি দেবী ও দিবাকারবাসিনী দেবীর পঞ্চোপচারে

পূজা করবেন। ও সৰ্ব্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে। শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণি নমোহস্তুতে। । পম মন্ত নামে এক ভঁকমী সধবা ্রন্মণী ছিল। কামিনী নামে একটি নাপিতিনী তার সই ছিল। একদিন নাপিতিনী বললে--সই, আমার খুবই দুঃখ-কষ্ট, কি করি বলতে পারো? ব্রাহ্মণী বলে- জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবারে মঙ্গলচণ্ডীর ব্রত কর। সইয়ের কথা শুনে সে ব্রত করলো, তার ফলে তার সব দুঃখ দূর হলো। কিছুদিন পরে সে সুখ সহ্য করতে না পেরে,কি করবে ঠিক করতে না পেরে বেনেদের লাউগাছ্‌ ছিড়ে দিল, তাতে গাছ আরও বেড়ে গেল। শেষে যক্তি করে ভাগাড়ে গিয়ে রাজার মরা হাতী ধরে কাঁদতে লাগলো, হাতীটা মঙ্গলচণ্ডীর দয়ায় বেঁচে গেল। এ সংবাদ শুনে রাজা নাপিতিনীকেখুব আদর যতু করলে। শেষে বিষের‌ নাড়ু তৈরী করে নাপিতিনী জামাইবাড়ি পাঠালো। কিন্তু তাতেও তারা মরলো না। তখন নাপিতিনী ব্রত করা বন্ধ করতেই তার বাড়ি-ঘর পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেল। মেয়ে জামাই মরলো। নাপিতিনী কাঁদতে লাগলো। শেষে মা মঙ্গলচণ্ডী ছদ্মবেশে দেখা দিলেন। নাপিতিনী কাঁদতে কাঁদতে তীর পায়ে ধরে সব বললে। মা মঙ্গলচণ্ডী সব শুনে তাকে আবার ব্রত করতে বললেন। ব্রত করার ফলে নাপিতিনীআবার ঘর-বাড়ি জমি-জমা ফিরে পেলো, মেয়ে-জামাই বেঁচে উঠলো। মা মঙ্গলচণ্ডীর দয়ায় তার সব দুঃখ ঘুচে গেল। সেই (থেকে এই ব্রত চারিদিকে

প্রচার হলো। অথ মনঙ্গলচণ্ডী বা জয় মঙ্গলবারের ব্রতকথা সমা

শিবরাত্রির ব্রত্কথা

ব্রতের নিয়ম--শিবরাত্রির আগের দিন হবিষ্যান্ন বা নিরামিষ আহার করে, রাত্রে বিছানায় না শুয়ে খড় বা কম্বলে

শুতে হয়। ব্রতের দিন উপবাসী থেকে গঙ্গামাটি বা শুদ্ধমাটি দিয়ে চারটি শিব গড়ে চার প্রহরে একটি করে কুট শৱ পুল তেতিখনে মারের পূবে দ্বারা, দ্বিতীয় প্রহরে দধি দ্বারা, তৃতীয় প্রহরে ঘৃত দ্বারা ও চতুর্থ প্রহরে মধু দ্বারা স্নান করাতে হয়। ব্রতের

সারারাত্রিজাগরণ করে পরদিন ব্রতকথা শুনে, ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে ও সাধ্যমত দক্ষিণা দিয়ে পারণ করতে হয়।

ব্রতের উপকরণ--গঙ্গামাটি বা শুদ্ধমাটি, বিন্থপত্র, গঙ্গাজল, ফুল, দুগ্ধ, দধি, ঘৃত, মধু ও কলা।

ব্রতের ফল--যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ, তীর্ঘের মধ্যে যেমন গঙ্গা, তেমনি ব্রতের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ ব্রত হলো

শিকচতুন্শী ্রত। এই ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ চতুর্বিধ ফল লাভ হয়ে থাকে।

পারণ মন্ত্র-সংসার ক্লেশদঞ্ধস্য ব্রতনানেন শঙ্কর। প্রসীদ সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিধৃদ ভব।

ব্রতকথা--বহুকাল আগে বারাণসীতে একটি ব্যাধ ছিল। দিনরাত্র সে শুধু জীবহত্যা করতো। একদিন ব্যাধ শিকার

করতে গিয়ে অনেক পশু-পক্ষী মেরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই বাড়ির দিকে রওনা হুলো। কিছুটা এগোতেই রাত্রি হায়ে গেল। অন্ধকার রাত্রি, পথ দেখাযায় না, সেতখন এক গাছের নীচেআশ্রয় নিল। কিন্তুগভীর জঙ্গলে হিত্র জস্ত-জানোয়ারের ডাক শুনে সে ভয়ে একটা গাছে উঠে তার ডালে মাংসের ঝোলা বেঁধে সেই ডালেই বসে রইলো। গাছটি ছিল বেলগাছ, গাছের নীচে ছিল শিবলিঙ্গ। ব্যাধ গাছের ডালে বসে নড়ে চড়ে উঠতেই শিশিরে ভেজা একটি বেলপাতা খসে পড়লো সেই শিবলিঙ্গের মাথায়। সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী। ব্যাধও ছিল উপবাসী, তাই শিবের

মাথায় বেলপাতা পড়তে শিব সন্তষ্ট হলেন! ব্যাধ কিছুই জানতো না, তবু তার শিবচতুদর্শী ব্রতের ফল লাভ হলো।

সকালে ব্যাধ বাড়ি ফিলে এলো। সবাই তার জন্য [ব্যাধ ফিরে আসতে তাকে তার বউ খেতে দিল। এমন সময় একজন্‌ অতিথি এলো। ব্যাধ কি ভেবে তার খাবারগুলি অতিথিকে খেতে দিল। তাতে তার পারণের ফলও লাভ হলো। কিছুদিন বাদে ব্যাধ অসুস্থ হয়ে মারা গেল। যমদৃতরা তাকে নিয়ে যাবার জন্যে এলো, এমন সময় সেখানে শিবদৃতরা এলো। দু'জনে যুদ্ধ বেধে গেল, যমদৃতরা হেরে গেল, শিবদৃতরা ব্যাধকে কৈলাসে নিয়ে এলো। যমদৃতরাও তাদের পিছনে পিছনে ধাওয়া করলো। কৈলাসের দ্বারে নন্দী পাহারা দিচ্ছিল, সে যমদৃতদের কাছে ব্যাধের শিবরাত্রির কথা বললো সব শুনে যমদৃতরা ফিরে গিয়ে যমকে সব জানালো। যম বললেন--হ্া, যে শিব বা বিষ্ণুর ভক্ত আর যে শিবচতুনদ্শী ব্রত কুরে এবং যে

বারাণসীধামে মারা যায়, তার ওপর আমার কোন অধিকার থাকে না। তারপর থেকে এই ব্রতের কথা চারিদিকে প্রচার

হলো। --অথ শিবরাত্রি ব্রতকথা সমাপ্ত

পৃষ্ঠা 2: শ্রীশ্রীসন্তোষী মাতার ব্রতকথা; ইতুপূজার ব্রতকথা

শ্রীশ্রীসন্তোষী মাতার ব্রতকথা

আআ ভীত ান্তোৰী: মাতা তক সময় ধূপ-দীপ জ্বালাতে হয়। এই ব্রতে কোনও তিথি নক্ষত্রের নিষেধ নাই।

ব্রতের উপকরণ--ধান, দুর্বা, ফুল, বেলপাতা, ছোলা, গুড় বা বাতাসা। এইদিন টক দ্রব্য খাওয়া নিষিদ্ধ।

ব্রতের ফল--যে সব নারী ভক্তিভরে এই ব্রত উদ্যাপন করে সেইসব নারী বৈধব্য যন্ত্রণা পায় নাও তাদের সকল

মনোবাসনা পূর্ণ হয়। তারা সারাজীবন স্বামী-পুত্র ও পরিজনবর্গসহ সুখে-স্বাচ্ছন্দে কাল কাটায়। তাদের গৃহে অর্থাভাব হয় না। যে কোনও বয়সের পুরুষ ও নারী এই ব্রত করতে পারে। বক মিকি এরিত বাদ কোন এক গ্রামে সাতপুতর ও পতী রাখি গেল স্ব্গধাযে॥ ৷ ছয় ভাইকর্ম করে আনন্দিত হয়ে। অর্থ যাহা পায় তাহা আনি দেয় মায়ে | ছোটছেলে রামুর ছিল বেকার জীবন। করিতে না পারে কিছু অর্থ উপার্জন সাবিত্রী নামেতে ছিল রামুর রমণী। সতী সাধ্বী পতিব্রতা স্বামী সোহাগিনী। বিবিধ সুখাদ্য মাতা করিরা রন্ধন। আগে দিত ছয় পুত্রে করিতে ভোজন। । ভাইদের উচ্ছিষ্ট রামুকে খেতে দেয়। বধুদের উচ্ছিষ্ট লয়ে সাবিত্রীকে দেয় || একদা সাবিত্রী তার স্বামীর গোচরে। সব কথা জানাইল ব্যথিত অন্তরে | পরীক্ষা ক্রিয়া রামু জানিতে পারিল। সব সত্য কথা যাহা সাবিত্রী বলিল। । পারিল রামু অর্থ নাহি যার। এ সংসারে জন্ম বিফল হয় তার |। বিদেশে যাইব রামু সাবিত্রীরে বলে। শুনিয়া সাবিত্রী তাহা ভাসে আঁ॥ দেশে দেশে ঘুরি রামু এক দেশে এল। ধনী সদাগর সঙ্গে তার দেখা হ’ল। ॥ । রামুকে সে সদাগর চাকুরী যে দিল। রামুর বুদ্ধিতে ব্যবসা প্রচুর বাড়িল। । ব্যবসায় অংশীদার রামুকে করিল। ক্রমশঃ উন্নতি তার হইতে লাগিল প্রত্যেক মাসেই রামু সাবিত্রীর নামেতে। পাঠাতে লাগিল টাকা আপন বাড়ীতে ৷ সেইটাকা সাবিত্রী কখনো নাহি পেতে। ছয় ভাই সেটাকা গোপনে লইত ৷ ছ’জায়ের কথামত সাবিত্রী খাটিত। তবুও সে পেট ভরে খেতে নাহি পেত। শাশুড়ীর অত্যাচার নাহি আর সয়। কান্ঠলাগি রোজ তারে বনে যেতে হয়। একদিন নিদ্রা তার আসে আচন্বিতে ৷ জ্যোতির্ময়ী দেবী এক দেখিল স্বপ্নেতে॥ বলে আমি মা সন্তোষী পূজা কর মোরে। তার ফলে দুঃখ কষ্ট সব যাবে দূরে। । পতি ফিরে পাবে বলি অন্তর্ধান কৈল। স্বপ্নভঙ্গে সাবিত্রী যে উঠিয়া বসিল ৷ মন্দির দেখি সাহিতী সেইস্থানেযায়। দেখে স্বপ্নে দেও দেবী বিরাজে তথায়। ্রতবিধিভানিয়া সাবিত্রীর করে। সত্তেহীমা প্রসন্না হলেন তার পরে। । হেথা স্বপ্নাদেশ দেবী করেন রামুরে। শীঘ্র করি ওরে রামু ফিরে যাও ঘরে। । দেবীর আদেশে বা দোকানত যেত দেহ যান ছা তর বাণ হ’ল বহতা জয়ে রা কি আচা ঘতে। শত ভে ধায় ছে রল মাতারে। । পত্নীরে দেখিয়া রামু হইল বিস্মিত। পত্নীমুখে সব শুনি হইল দুঃখিত॥ । রামু ও সাবিত্রী পূজে সন্তোষী মাতারে। ধনৈধ্বর্য তাহাদের দিনে দিনে বাড়ে ৷ ব্যবসা করিয়া রামু উন্নতি করিল। যথাকালে তাহাদের এক পুত্র সন্তান হ’ল ছয় ভাই ছয় জায় মন্ত্ৰণা করিল। রামুকে বিপদে ফেলিবার চেষ্টা কৈল সন্তোষী মাতার কৃপা ছিল তা পরে। সে কারণে ক্ষতি কেহ করিতে না পারে। । সন্তোষী মাতার ব্রত করে যেই জন। ধনে পুত্রে লক্ষ্মীলাভ করে সেই জন। টক

দ্রব্য শুক্রবারে কভু না খাইবে। সন্তোষী মাতার কৃপা অবশ্য পাইবে। । সন্তোধীর ব্রতকথা হৈল সমাপন। উলুধ্বনি দাও

সবে যত বামাগণ। । জয় জয় সন্তোধী মাতা তুমি গো কল্যাণী। তোমার কৃপায় সব সুখী হয় জানি॥

অথ মাতার ব্রতকথা সমাপ্ত

র ব্রতক্ুথা

ব্রতের নিয়ম-কার্ত্তিক মাসের সংক্রান্তিতে একটি পরিষ্কার সরায় মাটি দিয়া ঘটস্থাপন পূর্বক তাহার চারপাশে

ধান, হলুদ, মানকচু গাছ একটি করিয়া বসাইতে হয়। সরিষা, মটর, শুসনী, কলমী ও পাঁচটি ছোট বটের ডাল দিতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসের প্রতি রবিবার পূজা করিয়া সংক্রান্তির দিন গঙ্গা, নদী বা পুষ্করিণীতে ইতু বিসর্জন করিতে হয়।

ব্রতের উপকরণ যুব দূরব, বেলপাতা, সিন্দুর, তিল, হরীতকী, ধূপ, প্রদীপ নৈবেদ্য ও সেয়াকুল।

ব্রতকথা একগ্রামে ছিল এক ব্রাহ্মণী-ব্রাহ্মণ। বহুকষ্টে ভিক্ষা করি কাটাত জীবন উম্‌নো বুম্নো তাদের দুই

মেয়ে ছিল। পিঠে খেতে ব্রাহ্মণের মনে সাধ হ'ল। । ভিক্ষা করি ব্রাহ্মণ পিঠের যোগাড় করে। সন্ধ্যাকালে আনি তাহা দিল ব্রাহ্মণীরে | রাত্রিতে ব্রাহ্মণী পিঠে করিতে লাগিল। গৃহপার্শ্বে বসি বামুন গুণিতে লাগিল। । পিঠে তৈরী হলে বামুন বসিল খাইতে ৷ ব্রাহ্মণী আনিয়া পিঠে দিল তার পাতে। । দুই খানি পিঠে কম হইতে দেখিয়া। রাগেতে ব্রাহ্মণ যেন উঠিল ভ্বলিয়া। ৷ ভয় পেয়ে ব্রাহ্মণী তবে বলে বামুনেরে। দু'টি পিঠে দিছি আমি দুইটি কন্যারে। । একদা ব্রাহ্মণ আসি ব্রাহ্মণীরে কয়। কন্যাদ্বয়ে লয়ে যাব পিসীর আলয়। । শুনিয়া ব্রাহ্মণী খুব দুঃখিত হইল। স্বামীর ওপরে কিছু বলিতে নারিল। কন্যা দু'টি লয়ে দ্বিজ পথ বাহি যায়। হীঁটিতে হীঁটিতে শেষে দুপুর গড়ায়। ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর হৈল কন্যাদ্বয়। কান্ত হয়ে বসে তব জাম। লাক ৷ বামুন সুযোগ পেয়ে সে স্থান ছাড়িল। । নিদ্রাভঙ্গে কন্যাদ্বয় লাগিল ভাবিতে। কোথা পিতা বলি তারা লাগিল ডাকিতে ৷৷ উম্নো বলে বাবাকে বুঝি বাঘেতে খেয়েছে। ঝুম্‌নো বলে পিতা মোদের ত্যাগ করে গেছে। । পিঠে খেয়েছিনু মোরা সেই ক্রোধবশে। নিষ্ঠুর মোদের পিতা দিল বনবাসে | প্রভাত হইল নিশি হইল সকাল। পিঠে খেয়ে দু'বোনের এতেক জঞ্জাল। কোন্‌ দিকে যাবে তারা লাগিল ভাবিতে। ঘন ঘন চারিদিকে লাগিল দেখিতে। পথে যেতে যেতে তারা দেখে কিছু দূরে। কতগুলি মেয়ে সেথা কিবা পূজা করে। । উম্‌নো লালের পরে রুল) পদবী দেখিয়া কিনুন

পৃষ্ঠা 3: ইতুপূজার সমাপ্তি; বিপত্তারিণীর ব্রতকথা; সত্যনারায়ণ ব্রতকথা

এই ব্রত করে ভক্তিভরে। অভাব রহে না কিছু তাহার সংসারে। । ভক্তিভরে ব্রতকথা যেই জন শোনে। রোগ-শোক-দুঃখ

তার রহে না ভবনে ইতুব্রত কথা হেথা হৈল সমাপন। সবে মিলি কর সবে শ্রীহরি স্মরণ॥

অথ ইতুপূজার ব্রতকথা সমাপ্ত

ঞ — — নিপ ওারিণীর ব্রতকথা

ব্রতের নিয়ম- আষাঢ় মাসের শুক্লা তৃতীয়া থেকে নবমী তিথির মধ্যে যে কোন শনিবার বা মঙ্গলবারে এই ব্রত

ক | করিতে হয়। যথারীতি ঘট স্থাপন করে, পুরোহিত ব্রাহ্মণের দ্বারা বিপত্তারিণীর পূজা করাতে হয়। লক | সাধ্যমত তাকে দান ও দক্ষিণা দিতে হয়। , | ফল দু'ভাগ করে কেটে দিতে হয়। একটি চুবড়িতে তেরোটি গোটাফল, তেরো গাছিলালসূতা, তেরোটি দূৰ্বা, তেরোটি পান ও তেরোটি সুপারী দিতে হয়। ৰ |. অতিরিক্ত নিয়ম--ব্রতের আগের দিন হবিষ্য বা নিরামিষ আহার করতে হয়। ব্রতের দিন

পূজা-শেষেব্রতকথা শুনে, সেই আসনে বসেই ফল-মূল ও মিষ্টা্ন, কিংবা লুচি-পুরি খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। লাল

সুতোয় তেরোটি গাঁ ও দূর্বা দিয়ে পুরুষদের ডান হাতে এবং মেয়েদের বাম হাতে বীধতে হয়। পুরোহিতকে ফল-মূল ও যথাসাধ্য দক্ষিণা দিতে হয়।

ব্রতের ফল- এই ব্রতপালন করলে সংসারের সকল বিপদ কেটে যায়।

ব্রতকথা--বিদৰ্ভ দেশে এক রাজা ছিলেন। তীর রাণী খুব ভক্তিমতী ও স্বামীভক্তি-পরায়ণা। রাণী নিষ্ঠা-সহকারে

বিপত্তারিণীর ব্রত করলেন। এক মুচিনীর সঙ্গে তিনি সই পাতিয়েছিলেন। মুচিনীকে তিনি প্রায়ই নানারকম ফল ও খাদ্যদ্রব্য উপহার দিতেন। মুচিনী খুব গরীব, তবু তার খুব ইচ্ছা রাণীকে কিছু দেয়। রাণী রোজই বলেন যে, একদিন তোমার কাছ থেকে চেয়ে নেব। কিন্তু চাওয়া আর হয় না। হঠাৎ একদিন রাণী বললেন--তোমরা তো গো-মাংস রান্না কর। একদিন একটু নিয়ে এসো, দেখবো কি রকম। মুচিনী রাণীর কথা শুনে খুব খুশী। খুব যত্ব করে সে গো-মাংস রীধলো। তারপর কাপড় চাপা দিয়ে রাজবাড়ীতে এনে রাণীকে বললে গো মাংস এনেছি। রাণী তো আর খাবেন না, শুধু দেখবেন। তাই যত্ব করে ঢাকা দিয়ে রাখলেন। এদিকে হয়েছে কি, মুচিনী গোপনে গো-মাংস আনলো বটে, কিন্তু রাজবাড়ীর একটি চাকর তা দেখতে পেয়ে গেল। সে রাজাকে এসে সব কথা বলতেই রাজা এসে রাণীকে বললেন--মুচিনী তোমাকে কি দিয়ে গেছে? যদি আপত্তিকর কিছ নে রেখে গিরে থাকে, তাহলে আমি তোমার শিরশ্ছেদ করবো। রাণী বিপদে পড়ে, ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে একষূনে মা বিপত্তারিণী দুর্গাকে ডাকতে লাগলেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গা ভক্তের আকুল কান্নায় স্থির থাকতে পারলেন না, রাণীর কানে কানে বললেন- দেখগে সব ফুল হয়ে গেছে। রাণী তখন রাজাকে সেই ফুল এনে দেখালেন। রাজ্বা চাকরকে তিরস্কার করলেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায়

রাণীর বিপদ কেটে গেল। সেই থেকে এই ব্রতের কথা চারিদিকে প্রচার হলো।

অথ বিপত্তারিণীর ব্রতকথা সমাপ্ত

ব্রতের নিয়ম- এই ব্রতে কোনও তিথি নক্ষত্রের নিষেধ নাই। যে কোনও লোক প্রদোষকালে এই ব্রত করিতে

পারে। নারী-পুরুষ, কুমার-কুমারী সকলেই এই ব্রত করিতে পারে। পূর্ণিমা বা সংক্রান্তি এই ব্রতের প্রসিদ্ধ দিন। উপবাসী থাকিয়া এই ব্রত করিতে হয়।

পৃষ্ঠা 4: শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের ব্রতকথা, অব্যাহত

ব্রতের উপকরণ-ঘট, আম্রপল্লব, ডাব বা কলা, গামছা, সিন্দূর, গঙ্গামাটি, ধান, পিঁড়ে বা চৌকী, পাতন

বস্তু,তীরকাঠি, পান, কলা, সন্দেশ বা বাতাসা, পয়সা, ফুলের মালা, পতাকা, ফুলের তোড়া, ছুরি, তিল, হরীত্কী, '/ ফুল, তুলসী, দূর্বা, বেলপাতা,ধূপ, দীপ, পূজার বস্তু, গামছা, আসনাঙ্ুরীয়, যধুপর্কের বাটি, দধি, মধু,গব্যঘৃত, সিননির “ও সামন্ত নানাপ্রকার ফল কুচা, নৈবেদ্য, মিষ্টান্ন, দবি, গোময়, গোরোচনা, দক্ষিণা।

ব্রতের ফল--যে কোনও বয়সের নর-নারী এই ব্রত করিতে পারে। এই ব্রত করিলে সংসারে কোনও প্রকার দুঃখ

কষ্ট থাকে না। মনের সমস্ত কামনা-বাসনা নারায়ণ পূর্ণ করেন।

ব্রতকথা--প্রথমে বন্দিনু আমি দেব গজানন। সর্বসিদ্ধিদাতা আর বিঘ্ন বিনাশন। । হর-গৌরী বন্দিনু বিরিঞ্চি নারায়ণ।

বশিষ্ঠ বাল্মীকিআদিবন্দি মুনিগণ। ॥ ৷প্রণমিনু সত্যপীর নিয়ৎহাসিন। যাঁহার কৃপায় হয় ভুবন অখিল। । লক্ষী সরস্বতী বন্দি কালী করালিনী। সত্যপীর উপাখ্যান অপূর্ব কাহিনী || শুন শুন সর্বজন হায়ে এক চিত। যার যে পাইবে বর মুনে বাঞ্ছিত॥ গরীব ব্রাহ্মণ এক ছিল মথুরায়। ভিক্ষা করি কাটে কাল সুখ নাহি পায়। । একদিন সেই দ্বিজ ভ্রমিয়া নগর। কিন্তু না পাই ভিক্ষা হইল কাতর ৷ বৃক্ষতলে এসে বিপ্র বিষাদিত মনে। কান্দিতে লাগিল দ্বিজ ভিক্ষার কারণে কান্দিতে কান্দিতে দ্বিজ হইল অস্থির। দেখিয়া দয়ার্দ বড় হৈল সত্যপীর ৷ দয়াময় প্রভুদেব সত্যনারায়ণ। ফকিরের বেশে তারে দিল দরশন। । দ্বিজে কয় নারায়ণ, শুন মহাশয়। কি কারণে কাঁদ তুমি বসিয়া হেথায়। । দ্বিজ বলে, কি হইবে বলিলে তোযায়। ফকির বলেন দ্বিজ ক্ষতি কিবা তায় দ্বিজ বলে নিত্য আমি ভিক্ষা মাগি খাই। আজ না পাইনু ভিক্ষা দুঃখ ভাবি তাই। । ফকির কহিল, দ্বিজ যাও নিজ ঘরে। আমারে পূজহ তব দুঃখ যাবে দূরে দ্বিজ বলে, নিত্য পূজি শিলা নারায়ণ। তাহা ভিন্ন না করিব ম্লেচ্ছ আচরণ হাসিয়া ফকির বলে, শুন দ্বিজবর। পুরাণ কোরাণে কিছু নাহি মতান্তর রাম ও রহিমে জেনো নাহি ভেদাভেদ ত্ৰিজগতে এই দুই জানিবে অভেদ। । এত বলি নিজমূৰ্ত্তি ধরে জগন্নাথ। শত্খ চুক্ত গদা পদুধারী চারি হাত।

মূর্তি হেরি দ্বিজবর পড়িল ধরণী। করিল প্রচুর স্তব গদগদ বাণী | দেখিতে দেখিতে পুনঃ ফকির হইল। দেখি তাহা দ্বিজবর

বিস্মিত হইল ব্রাহ্মণ বলেন, প্রভু পূজিব তোমায়। পূজার পদ্ধতি কিবা বল হে আমায় ৷ ফকির বলিল, তবে শুন দ্বিজবর। পূজার পদ্ধতি যথাবলি অতঃপর ৷ বলিতে লাগিল প্রভু ব্রাহ্মণের তরে। গম কিংবা ত্ডুল-চুর্ণ সওয়া সেরে। সওয়া ছড়া কলা করিবে আয়োজন। সওয়া গণ্ডা গুবাক আর পন সওয়া পান। সওয়া সেরা চিনি কিংবা গুড় আর ক্ষীর। তাহাতে সস্তষ্ট হই আমি সত্যপীর॥ । চিনি আর ক্ষীর দিতে যার নাই শক্তি। দুগ্ধ আর গুড় দিয়ে করিবে ভক্তি ৷ বসিবে সকল ভক্ত

হয়ে একমন। এক মনে ভক্তিভরে করিবে পূজন। । পূজা অন্তে ব্রতকথা শুনিবে শ্রবণে। ভক্তিতে পূজা ক্র শাস্ত্রের

বিধানে। । সত্যপীর বলি সবে মাথে দিবে হাত। নারায়ণ বলিয়া করিবে প্রণিপাত্‌ ৷ প্রসাদ লইবে সবে শাস্ত্রের বিধান। এত বলি নারায়ণ হ'ন অন্তর্ধান | ভক্তিভাবে দ্বিজবর হয়ে হরষিত। কিছু ভিক্ষা করি গৃহে হ’ন উপনীত। ব্রাহ্মণী শুনিয়া সব হয়ে আনন্দিত। পূজা হেতু আয়োজন করে বিধিমত ৷ ভক্তিভাবে পূজে দ্বিজ নারায়ণ পদ। প্রভুর কৃপায় দ্বিজ লভিল সম্পদ। কাঠরিয়াগণ সবে বিস্ময় মানিল। ভক্তিভরে ব্রাহ্মণেরে জিজ্ঞাসা করিল। । ব্রাহ্মণ তাদের বলে বিধান সমস্ত কাঠুরিয়া পৃঞজিবারে হৈল বড় ব্যস্ত সিন্নি যে করিল তারা বিধি সহকারে। দুঃখ দূর হইল আনন্দ ঘরে ঘরে। । অতঃপর সদানন্দ সাধু একজন। কাঠুরের সম্পদ দেখিয়া হষ্টমন | জিজ্ঞাসিয়া সবকথা জানিতে পারিল। শুনিয়া সাধুর মনে ভক্তি উপজিল। ॥ । সাধু বলে অপ্রতুল নাহি অন্য ধনে। কন্যা নাই দুঃখ তাই সদা উঠে মনে ৷ যদ্যপি আমার এক জনমে তনয়া সত্যদেব পূজা করিআনন্দিত হৈয়া এত বলি গেলস রকরি। যথাকালে জন্মে কন্যা পরমাসুন্দরী | সত্যনারায়ণ পূজা সে সাধু ভুলিল। যথাকালে কন্যাটির বিবাহ যে দিল। । অতঃপর সাজাইল সপ্তমধুকর। জামাতা সহিত সাধু চলিল সত্বর ৷ দক্ষিণ পাটনে রাজা নাম কলানিধি। সেই রাজ্যে সদাগরে মিলাইল বিধি৷ রাজা সম্ভাষিয়া তাকে তরণী চাপিয়া প্ৰমাদ ঘটিল তার সিন্নি নাহি দিয়া| রাজার ভাণ্ডার মাঝে ধনাদিযা ছিল। রাত্রিতে আসিয়া সাধুর তরী পূর্ণ হল। । ছল পেয়ে রাজা তার তরী লুঠ করে। শ্বশুর জামাতা লয়ে রাখে কারাগারে। রাজাদেশে কোটাল মশানে লয়ে যায়। পাত্র অনুরোধে তারা উভে প্রাণ পায় কারাগারে বন্দী থাকে শ্বশুর জামাই। কি কহিব উভয়ের দুঃখের সীমা নাই। । এখানে সাধুর পত্নী আর তার সুতা। পতির বিলম্ব দেখি মহা শোকযুক্তা। সঙ্গতি বিনষ্ট হৈল পড়িল দুঃখেতে। দাসীত্ব করিয়া খায় পরের পতা আর পতি-আশে কামনা করিল শ্বশুর জামাতা যেথাবন্দী কারাগারে। নারায়ণ স্বপ্নে কন সেই নৃপ্বরে॥ শুন ওহে মহারাজভআমার বচন। কলিকালে পূজী আমি সত্যনারায়ণ ৷ সদ্‌গর দুইজন শ্বশুর জামাই বিনাদোযে বন্দী আছে তোমারে জানাই প্রভাত হইলে তুমি দুই সদাগরে। দশগুণ ধন দিয়া তুষিবে আদরে। । এত বলি ধরিলেন আপন মূরতি ৷স্বপ্ন দেখি চমকিয়া উঠিল নৃপতি মুক্ত করি সদাগরে বহুধন দিল। তরী পূর্ণ করি রাজা বিদায় করিল। । বুঝিতে সাধুর মন সত্যুনারায়ণ। ফকিরের বেশে পথে দিল দরশন। ফকির বলেন, শুন ওহে সদাগর। ফকিরেরে কিছু ভিক্ষা দিয়া যাও ঘর। । শুনি সদাগর তারে অবজ্ঞা করিল। তরীর সামগ্রী যত তুযাঙ্গর হৈল। । দেখি তাহা সদাগর করে হায় হায়। ধরণী লোটায়ে ধরে ফকিরের দা অ (যা হাহ সাধুর রমণী কন্যা শুনি কুতূহল ৷ তরীর সামগ্রী যত ভাণ্ডারেতে লৈয়া। সিন্নি করিল সাধু আনন্দিত হৈয়া ৷৷ সকলে প্রসাদ নিল যোড় করি পাণি। প্রসাদ ভূমিতে ফেলে সাধুর নন্দিনী। । তাহা দেখি সত্যদেব কূঁপত হইল। জামাতা সহিত তরী জলে ডুবাল ৷ হাহাকার করে সবে পড়িয়া ভৃমেতে শুনি সাধু কন্যা যায় ডুবিয়া মারতে | হেনকালে দৈববাণী হৈল আচন্বিত। সিরনি ফেলিয়া কন্যা কৈল বিপরীত শুনি কন্যা সেই সিন্নি চাটিয়া খাইল। জামাতা সহিত তরী ভাসিয়া

পৃষ্ঠা 5: সত্যনারায়ণ ব্রতকথার সমাপ্তি; শনিদেবের ব্রতকথা

অথ সত্যনারায়ণের ব্রতকথা সমাপ্ত

র নিয়ম--শনিবার সন্ধ্যাকালে ঘরের বাহিরে উঠানে এই ব্রত করিতে হয়। ইহাতে সত্যনারায়ণ পূজার ন্যায়

সির দেওয়া হয়। সারাদিন উপবাসী থাকিয়া সন্ধ্যায় শনিদেবের পূজার শেষে ব্রতকথা শুনিয়া নির্মাল্য প্রসাদ গ্রহণ

করিবেন রবেন। কালো তিল, sah Lah, ধূপ-দীপ, সিন্নির জন্য আটা, দুগ্ধ, গুড়, কলা, বাতাসা, কালো মাটির ঘট বা লোহার ঘট, পুষ্প, গঙ্গাজল ও ত দেহ ত ও কৰিলে শৰনিদেব সৃপসন হন। সংসারে আপদ-বিপদ, দুঃখ-কষ্ট দূর হইয়া সংসার শাত্তিমর হয়। শনিদেবের কৃপায় সর্বপ্রকার গ্রহদোষ কাটিয়া যায়। ধি--আচমনাদি সমাপন করিয়া স্বস্তি বাচন ও স্কল্প করিয়া গণেশাদি পঞ্চাদেবতার পূজাস্তে যথাবিধি

ধ্যান-ওঁ সৌরাষ্টরং কাশ্যপং শূদ্রংসূর্যযাস্যংচতুরঙ্গলম্‌। কৃষ্ণং কৃষ্ণাস্বরং গৃধ্গতং সৌরিং চতুর্ভুজম্‌। উদ্ধববাণং শূলং

ধনুত সমাহৃয়েৎ। যমাধিদৈবতং দেবংপৰঁজাপতি প্ত্যধিদৈবতম।

পূজামন্ত্র ওঁ এং হীং শ্ৰীং শনৈশ্চরায় নমঃ।

ন বয় ফলা বা ন লা জাব ন কত লা মা অতঃপর নবগ্রহ, দশদিকপাল, ছায়া, সবর্ণা, কালী, শিব, যম ও প্রজাপতির পূজা করিয়া পরে শনির পঞ্চোপচারে

পূজা করিবেন। শেষে “ও গৃধায় নমঃ’ মন্ত্রে গৃধের পূজা করিবেন।

ব্রতকথা--শ্ৰীহরি নামেতে এক ছিল যে ব্রাহ্মণ। নিত্য ভিক্ষা করি করে উদর পূরণ দিবা রাত্র কৃষ্ণনাম জপে

অকপটে অস্তরে সদাই সুখী অন্ন নাহি পেটে হেনকালে তার এক পুত্রজনমিল। পুত্র মুখ দেখি দ্বিজ বিষাদে ভাসিল্‌॥ ভিক্ষা করি দ্বিজসেবা পুত্র রক্ষা করে। সুমঙ্গল বলি নাম রাখিল পূত্রেরে॥ অত্যন্ত মেধাবী পুত্র সবে গুণ গায়। অল্পদিন মধ্যে শিশু শিখে সমুদয় | শাস্তু আলোচনা করি শাস্ুল্ঞ হল। পণ্ডিত বলিয়া তারে সকলে জানিল মনে মনে সুমঙ্গল EAL Ol রতে লাগিল। আচম্বিতে এক স্থানে করিল শ্রবণ। পিতা-মাতা পরলোকে করেছে গমন। । শুনি তাহা গয়াধামে করিয়া গমন। বিষ্ণুপাদ-পদ্বে শিশু করিল অর্পণ ৷ কালবশে ঘটে যাহা কে করে খণ্ডন। শনির দৃষ্টিতে পড়ে দ্বিজের নন্দন৷ ভ্রমিতে ভরমিতে দ্বিজ যায় বহুদূরে। শেষে উপস্থিত হয় বিদর্ভ নগরে। । রাজার সভায় দ্বিজ উপস্থিত হৈল। ব্রাহ্মণ দেখিয়া রাজা অভ্যর্থনা কৈল। ॥ । রাজার নিকটে দ্বিজ দেয় পরিচয়। সুমঙ্গল নাম মোর ওহে মহাশয় ৷ অতি দুঃখী হই আমি নাহি পিতা-মাতা। নানা দেশ ভ্রমিআমি থাকি যথা তথা শ্ৰীবৎস রাজন্‌ বলে, চিন্তা

র কর। আমার আশ্রয়ে থাকি মোরে কৃপা কর শাস্তবন্র পণ্ডিত তুমি বুঝি অনুমানে। শাস্ত্রপাঠে তুষ্ট কর সভাসদগণে॥

দুই পু আছে মরে শুন'হেৱা্দণ। পড়াইবত্বকাহ্কেরিয়ছিয়ন। রাজার একোতে ভি সর ইল রা রে বাস করিতে লাগিল। । দুই রাজপুত্রে দ্বিজ অতি যত্ন করে। নিত্যই পড়ায় দ্বিজ রাজার কুমারে। । এইরদপে কিছুদিন বিগত হইল। পড়ুয়া বেশেতে শনি উপস্থিত হইল শনিরে জিজ্ঞাসে দ্বিজ, শুন বাছাধন। কিবা হেতু হেথা তব হয় আগমন॥ শনি বলে, এনু শাস্তু অধ্যয়ন তরে। দ্বিজ বলে, যত্বু করি পড়াব তোমারে | অল্পদিন মধ্যে KLE হ্যা পরিচয় জানিতে চাহিল। । শনি বলে, পরিচয় কিবা দিবআর। শনৈশ্চর নাম মোর সূর্যের কুমার ৷৷ সুমঙ্গল বলে দিলে মোরে। কিসে দুঃখ দূরে যাবে বল হে আমারে। । আমার উপরে আছে তোমার কটাক্ষ। কিসে যাবে বল য় স্বপক্ষ শনি বলে, ভোগকাল্‌ ছয়মাস আছে। দশদণ্ড মধ্যে যাবেনা আসিবেকাছে। । সপ্তম দিবসে গিয়া ভগীরথী তীরে। একান্ত মনেতে দ্বিজ ভজ মুরারীরে। । এত বলি শনিদেব অন্তর্ধান হৈল। সুমঙ্গল আর তার দেখা না পাইল শনি আজ্ঞামত দ্বিজ গিয়া গঙ্গাতীরে। নারায়ণে ভজে দ্বিজ একান্ত অস্তরে। । দশদণ্ড পূর্ণ হৈল মনেতে বিচারি। উঠি দাড়াইল দ্বিজ বলিয়া শ্ৰীহ্‌রি॥ কিন্তু দশদণ্ড পূর্ণ না হয় তখন। তার পূর্বে চলে আসে আপন ভবন। ॥ তাহা দেখি শনিদেব কুপিত হইল। দুই হয হণ হা বহিল | পৃ মায়া বাল দহ চিত মৃত গাছি য তেৱ নিৰ্টে হ নি যায তাছ তামি। হেথা তিতা চক বুজি শ্রীহরি ESO UCT TOUTE EET GE গঙ্গাতীরে গেল। । দেখিয়া দ্বিজের কোলে পুত্র মুগুদ্বয়। হাহাকার করি রাজা ধূলায় লুটায়। রাজাদেশে দৃতগণ বাঁধে ব্ৰহ্মাণেরে। শৃঙ্খলে বন্ধন করি রাখে কারাগারে ৷৷ কারাগারে বসি দ্বিজ কীদিতে লাগিল। বিপদহস্তা মধুসূদনে স্মরিতে লাগিল। । অতঃপর ঘটে এক বিচিত্র ঘটন। দশদণ্ড বেলা পূর্ণ হইল যখন। শোকেতে কাতর রাজা ছিলেন যেখানে। হেনকালে দুই পুত্ৰআসিল সেখানে রাজা বলে, কোথা ছিলে হৃদয়ের ধন। শয্যা পরে ছিনু পিতা করিয়া শয়ন | পুত্রদের

পৃষ্ঠা 6: শনিদেবের ব্রতকথার সমাপ্তি; বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মী ব্রতকথা

রাজা করে তার স্তবতি। সব অপরাধ ক্ষমা কর মহামতি। কৃপা করি কর মোর সন্দেহ ভঞ্জন। তব ক্রোড়ে কার যুগ “ও

করেছি দর্শন দ্বিজ বলে, মহারাজ কিছুই নাজানি। শনি কোপে কষ্ট পাই এইমাত্র মানি। । রাজা বলে, যদি পাই শনি-দরশন। যোড়শোপচারে তীর করিব পূজন নৃপবাক্য শুনি দ্বিজ করিল গমন। শনির নিকটে সব করে নিদেবন। শুনিয়া সকল কথা শনিদেব এল। শনিদেবে দেখি রাজা প্রণাম করিল। । রাজা বলে যদি প্রভু এলে কৃপা করে। পূজার বিধান তবে বল ডু যোরে। । শি বলে, পুজা রিযি গুমহে রাজন যেরাে করিয়ে হের পয আযোজন! গুদভাবে ওরে তামার বারেতে। করিবে আমার পূজা একান্ত মনেতে || নীলবস্তর কৃষ্ণতিল আর তৈল দিবে। মাবকলাই আর মোষ সংগ্রহ করিবে॥ কৃষ্ণবৰ্ণ ঘট এক করিয়া স্থাপন। পঞ্চজাতি ফল-ফুলে করিবে অর্চন ৷ এই মোর পূজাবিধি কহিলাম সার। ভক্তই প্রধান জেনো কি কহিব আর ৷৷ পূজা-শেষে ভক্তিভরে করিবে প্রণাম। নবগ্রহ স্তোত্র পাঠে লইবেক নাম আমার প্রসাদ খাবে করিয়া যতন। সর্বপাপ দূরে যাবে আমার বচন অভক্তি করিয়া যেবা প্রসাদ খাইবে। অল্পদিনে শমনের ভবনে সেযাবে। ॥ আমার পূজায় যেবা করে অনাদর। চিরকাল দুঃখ পেয়ে হইবে কাতর ৷৷ এত বলি শনিদেব হন অদর্শন। ভক্তিভরে করে রো শা পৃ বা শাহ পা কারে যর বা যন। তুং লা ফর || বর পাত নল যায় লইয়া। শনিদেবে পূজা করে গঙ্গাতীরে গিয়া ৷৷ এইরূপে পূজা প্রচারিল শনিদেবে। যাহার যেমন সাধ্য সে ভাবে পূজিবে॥ শনির মাহাত্ম্য যত কে বর্ণিতে পারে। কিঞ্চিৎ রচিত হৈল শনিদেবের বরে সর্বদা শনির পদ থাকে যার মনে। উদ্ধারে বিপদ হতে পড়িলে শমনে শনির পাঁচালী যেবা রাখিবে ভবনে। কখনও না পড়ে সে বিপদ বন্ধনে। । শনি প্রণমিয়া যেবা দিবা ঘন বাত ছার তা ভাপ কর জিরা দা খা বি যা শা বুল সনম বাবত রণ চুরিতে! শনির চরণ এতদূরে এই গ্রন্থ সমাপন করি। শনৈশ্চর সবে বল হরি হরি॥

অথ শনিদেবের ব্রতকথা সমাপ্ত

লক্ষ্মীদেবীর ধ্যান ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্তোজ সৃণিভিষাম্যসৌম্যয়ো। পদ্মসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্‌॥

গৌরবর্ণাং সুরূপাহ সৰ্ব্বালঙ্কার ভূষিতাম্‌। রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু॥

পূজামন্ত্র শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ।

পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্ু—নমস্তে সৰ্ব্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে। যা গতিস্বৎ প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চনাৎ॥

প্রণাম মন্ত্র বিশ্বরূপস্য ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে। সর্ব্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমোহস্তুতে। ।

স্তব- ওঁ ত্ৰৈলোক্য পূজিতে দেবি কমলে বিষ্ণুবল্লভে। যথা ত্বং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভব ময়ি স্থিরা ৷৷ ঈশ্বরী কমলা

kts ne! তিহ্রিপ্রিয়া। পদ্মা-পদ্মালয়া সম্পদ্প্রদা শ্রীঃ পদ্মধারিণী। দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেৎ। রর পুত্ৰদার দিভিঃ সহ। ।

ব্রতকথা- দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ। ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস লক্ষ্মী দেবী বামে লয়ে বসি

নারায়ণ। কহিতেছেন নানা কথা সুখে আলাপন। ॥ হেনকালে বীণা-হস্তে নারদ মুনিবর। লক্ষ্মী-নারায়ণে নমি কহিল থে বিস্তর ৷৷ খষি বলে, মাগো তব কেমন বিচার। সর্বদা চঞ্চলা হয়ে ফির দ্বারে দ্বার ৷৷ মর্ত্যবাসী সদা তাই গছে দুৰ্গতি। ক্ষণেকের তরে তব নাহি কোথা স্থিতি। । অন্নাভাবে মাগো তারা সদা দুঃখ পায়। অন্ন সবাকারজীর্ণ শীর্ণ কায়। নারদের বাক্য শুনি লক্ষ্মী ঠাকুরাণী। সঘনে নিঃশ্বাস ত্যজি কহে মৃদুবাণী॥ কু না কাহারও প্রতি আমি করি রোষ। মর্ত্যবাসী দুঃখ পায় নিজ কর্মদোষ। ॥ । যাও তুমি ঝষিবর 9] ত্ৰিলোক-ভ্ৰমণে। ইহার বিধান আমি করিব যতনে অতঃপর চিন্তি লক্ষ্মী, নারায়ণে কয়। কিরূপে 4% হরিব দুঃখ কহ দয়াময় ৷ হরি কহে, শুন সতী বচন আমার। মর্ভুধামে লক্ষ্মী করহ প্রচার প্রতি তবারে মিলি যত এয়োগণে। সন্ধ্যাকালে পূজি কথা শুনিবে শ্রবণে॥ বাড়িবে এখ্বর্য তাহে তোমার কৃপায়। দুঃখ-কষ্ট দূরে যাবে তোমার দয়ায় শ্রীহরির বাক্যে লক্ষ্মী আনন্দিত মনে। মর্ত্যধামে চলিলেন ব্রত প্রচারণে॥ অবস্তী নগরে লক্ষ্মী হৈয়া উপনীত। দেখিয়া শুনিয়া হ’ন বড়ই স্তম্ভিত। । নগরের লক্ষপতি ধনেশ্বর রায় অগাধ এখ্য্য তার কুবেরের প্রায়। সোনার সংসার তার শূন্য হিংসা দ্বেষ। প্রজাগণে পালিত সে পুত্র নির্বিশেষ। ৷ এক হৈল স্বতন্তর ৷৷ ক্রমে ক্রমে লক্ষ্মীদেবী ছাড়িল সবারে। সোনার সংসার সব গেল ছারখারে। । বৃদ্ধা ধনেশ্বর-পত্নী না পারি তিষ্ঠিতে। গহন কাননে যায় পরাণ ত্যজিতে ৷৷ হেনকালে ছদ্মবেশে দেবী নারায়ণী। বন মধ্যে উপনীত হলেন আপনি। ॥ মধুর বচনে দেবী জিজ্ঞাস বৃদ্ধারে। কি জন্য এসেছ তুমি গহন কান্তারে ৷৷ কীদিতে কীদিতে বৃদ্ধা অতি দুঃখভরে। তাহার ভাগ্যের কথা বলিল লক্ষ্মীরে। । সহিতে না পারি আর সংসার যাতনা। ত্যজিব জীবন আমি করেছি বাসনা ৷ লক্ষ্মীদেবী বলে, শুনআমার বচন। আত্মহত্যা মহাপাপ নরকে গমন। গৃহে ফিরে গিয়া তুমি কর লক্ষ্মীত। সব দুঃখ দুরে যাবেহবে

পূর্বমত। । মনেতে লক্ষ্মীর মূর্তি করিয়া চিন্তন। একমনে ব্রতকথা করিবে শ্রবণ |। যেই গৃহে গুরুবারে লক্ষ্মীবরত হয়। সেই

পৃষ্ঠা 7: লক্ষ্মী ব্রতকথার সমাপ্তি; মহাযোগী লোকনাথবাবার পাঁচালী

একদিন বৃদ্ধার আলয়ে। উপনীত এক নারী ব্রতের সময়ে। ব্রতকথা শুনি তার ভক্তি উপজিল। লক্ষ্মীরত করিবারে মানস

করিল। । স্বামী তার চিররুগ্ন অক্ষম অর্জনে। ভিক্ষা করি যাহা পায় খায় দুইজনে। । এই কথা চিন্তি নারী করিল কামনা। স্বামীরেনীরোগ কর চরণে বাসনা গৃহে ফিরি সেই নারী করে লক্ষ্মীবত। ভক্তিভরে সাধ্বী নারী পূজে বিধিমত || দেবীর কৃপায় তার দুঃখ হৈল দূর। পতি হৈল সুস্থ দেহ, এঁখ্য প্রচুর ৷ কালক্রমে শুভদিনে জন্মিল তনয়। সংসার হইল তার সুযেরআলয়। ৷এইরূপে লক্ষ্মীর করে ঘরে ঘরে। প্রচারিত হয় ক্রমে অবস্তী নগরে শুন শুন এয়োগণ অর্ূর্বব্যাপার। ব্রতের মাহাত্যু যাতে হইল প্রচার | অবস্তী নগরে এক গৃহস্থ ভবনে। এয়োগণ লক্ষ্মীরত করে একমনে || অকস্মাৎ এলো সেথা বণিক তনয়। দাঁড়াইল সেই স্থানে ব্রতের সময় ৷৷ ধনৈশ্বর্যে পূর্ণ গৃহ ভাই পঞ্চজন। পরস্পর অনুগত রয় সর্বজন। ॥ ব্রত দেখি হেলা করি বণিক তনয়। বলে, একি ব্রত ইথে কিবা ফলোদয় || বণিকের বাক্য শুনি বলে বামাগণ। লক্ষ্মীব্রত করিইঘথে কামনা পূরণ || এই ব্রত যে করিবে ধনে জনে তার। লক্ষ্মীর কৃপায় হবে সোনার সংসার। শুনি তাহা সদাগর

বলে অহঙ্কারে। যে জন অভাবে থাকে সে পূজে উহারে॥ । ধনৈধ্বর্য ভোগ আদি যা কিছু সৃস্তবে। সবই তো আমার আছে

আর কিবা হবে। । ভাগ্যে না থাকিলে লক্ষ্মী কিবা দিবে ধন। হেন কথা কভু আমি না শুনি কখন। । অহঙ্কার-বাক্য লক্ষ্মী সহিতে না পারে। গর্বের কারণে লক্ষ্মী ছাড়িল তাহারে। । ধনমদে মত্ত হয়ে লক্ষ্মী করি হেলা। নানা রত্ন পূর্ণ তরী বাণিজ্যেতে গেলা। দৈবযোগে লক্ষ্মী কোপে সহ লোকজন। সপ্ততরী জল মধ্যে হইল নিমগন গৃহমধ্যে ধনৈষ্বর্য যা ছিল তাহার। বদ্বাঘাতে দন্ধ হয়ে হৈল ছারখার ৷ দূরে গেল ভ্রাতবভাব হৈল ভিন্ন ভিন্ন। সোনার সংসার তার হইল বিপন্ন || ভিক্ষাজীবী হয়ে সবে ফিরে দ্বারে দ্বারে। পেটের জ্বালায় ঘোরে দেশ-দেশাত্তরে। ৷ এরূপ হইল কেন বুঝিতে পারিল। কেঁদে কেঁদে

লক্ষ্মীস্তব করিতে লাগিল। । সদয়া হলেন লক্ষ্মী তাহার উপরে। পুনরায় কৃপাদৃষ্টি দেন সদাগরে। মনে মনে মা লক্ষ্মীরে

করিয়া প্রণাম ব্রতের সঙ্কল্প করি আসে নিজ ধাম লক্ষ্মীর করে সাধু লয়ে বধুগণ। সাধুর সংসার হৈল পূর্বের মতন্‌ ৷৷ এইরূপে লক্ষ্মীর মর্ত্যেতে প্রচার। সদা মনে রেখো সবে লক্ষ্মী সার। । এই ব্রত যেই নারী করে একমনে। লক্ষ্নীর

কৃপায় সেই বাড়ে ধনে-জনে। । করযোড় করি সবে ভক্তিযুক্ত মনে। লক্ষ্মীরেপ্রণাম কর যে থাক যেখানে ৷ ব্রতকথা যেবা

পড়ে, যেবারাখেঘরে। লক্ষ্মীর কৃপায় তার মনোবাঞ্ছা পুরে। । লক্ষ্মীর ্রতের কথা বড় মধুময় প্রণাম করিয়া যাও যে যার

আলয় লক্ষ্মী ব্রতকথা হেথা হৈল সমাপন। মনের আনন্দে বল লক্ষ্মী-নারায়ণ

অথ প্রতি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীর ব্রত কথা সমাপ্ত

মহাযোগী লোকনাথবাবার পাঁচালী ত্ৰিকালজ্ঞ মহাযোগী লোকনাথের জয়। পাপী তাপী উদ্ধারিতে হলেন উদয় ৷ আর্ত হন বাবা কচুয়া গ্রামেতে॥ জনমিল লোকনাথ ঘোষাল গৃহেতে ৷ পিতা রামকানাই ঘোষাল কমলাদেবী মাতা ৷ ধর্মপরায়ণা তিনি সতী পতিব্রতা। । একাদশবর্ষ যবে লোকনাথ হলো। ভগবান গাঙ্গুলী তীরে সন্যাস দীক্ষা দিল। গৃহত্যাগ করি আর ত্যুজি পরিজন। গুরু সঙ্গে কালীঘাটে করে আগমন বেণীমাধব বাল্যসাথী সঙ্গেতেই ছিল। শিষ্যদ্বয়ে গুরু নানা যোগ শিখাইল। । তারপর আসে তারা হিমাদ্রি শিখরে দীর্ঘদিন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে। তারপর গুরু সঙ্গে শিষ্য দুইজন। পৃথিবীর নানা দেশ করেন ভ্রমণ ৷ বিভিন্ন ধর্মের তত্ত্বজানিবার তরে। উপস্থিত হন মক্কামদিনা নগরে। । কাবুলে আসিয়া মোল্লা সাদীর ভবনে। কোরাণ শরীফ পাঠ করেন যতনে। । বিশ্ব পরিক্রমা শেষে বেণীমাধব সঙ্গেতে। উপস্থিত হন চন্দ্রনাথ পাহাড়েতে। । দাবানল জ্বলে ওঠে বনের ভিতরে। অগ্নি থেকে রক্ষা করে বিজয় গোস্বামীরে॥ বেণীমাধব চলে যান কামাক্ষ্যা ধামেতে। বাবা নেমে আসিলেন বার্দী গ্রামেতে ৷ বাবাকে প্রথমে কেহ চিনতে না পারে। পাগল বলিয়া সবে উপহাস করে। । একদিন দু;্রাহ্মাণের পৈতা জড়াইল। গায়ত্রী ক্রিয়া বাবা তাহা খুলে দিল। । চারিদিকে এই কথা প্রচার হুইল। দলে দলে ভত্তবৃন্দ আসিতে লাগিল। । অতঃপর আশ্রম হইল বারদীতে। বহুভক্র শিষ্য সেথা লাগিল আসিতে ৷ পাপী-তাপী, রোগী কত আসিল তথায়। সবার কষ্ট বাবা করে নিরাময় || শিষ্য আর ভক্তের বাবা বলেন একথা। আমাকে ঠাকুর রূপে পূজা করাবৃথা |শ্রদ্ধাভক্তি নিয়ে যেবা আমারে ডাকিবে। অবশ্যই সেই ভক্ত মোর সাড়া পাবে। ॥ আমি নেই এই কথা কোরনা মনেতে ছিলাম, আছি, থাকবো সদা তোদের মাঝেতে জলে স্থলে যখনই বিপদে পড়িবে। তখনই আমার কথা স্মরণ করিবে। । এইক্ূপে লোকনাথ কত লীলা করে। কার সাধ্য সেই সব বর্ণিবারে পারে। ॥ ১৬০ বৎসর বাবার বয়স হইল। মৰ্ত্যধাম ত্যাজিতে বাবার ইচ্ছা হলো। । ১২৯৭ সাল ১৯শে জ্যৈষ্ঠেতে। দেহ ত্যাজি যান বাবা অমরলোকেতে ৷৷ যার ঘরে বাবার চিত্র রাখিবেযতনে। অন্নকৃষ্ট থাকিবে না তাহার ভুবনে রোগ শোক দুঃখ কষ্ট সবদূরে যাবে। পুত্র পৌত্র সহ সবে

আনন্দে থাকিবে। । বাবার পাঁচালী যেবা পড়ে কিংবা শুনে। পুণ্যবান সেই জন সদা রেখো মনে। । কোনও মন্ত্র কোনও

অথ মহাযোগী লোকনাথবাবার পাঁচালী সমাপ্ত $

পৃষ্ঠা 8: শ্রীকৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা; রামনবমী ব্রত

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা $

দিলীপ রাজ ক'’ন বশিষ্ঠ মুনি প্রতি। শ্রীকৃষ্ণের জন্মকথা শুনিতে সম্প্রতি ৷৷ ভাদ্রমাসে কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমী তিথিতে। হত বাদক বদি ত দা | তম ত ৰক ন ত জাই 2৯ অজ এ সুথিবীতে জন্মে দৈবকী উদরে। সেই LARA RAL LENG LR ২-২ নামে নরপতি। অহঙ্কারে মত্ত হয়ে থাকি দিবারাতি | পৃথিবীর দুঃখ দশা দেখি শৃল' & ক্রোধেতে অধীর হয়ে কহে এই বাণী। দেবগণ চল যাই ব্রহ্মার সকাশে। করিব উপায় আজি ক কংসের বিনাশে। অনন্তর মহেশ্বর দেবগণে লয়ে। গমন করিল সবে ব্রহ্মার আলয়ে। ৪53৯ ব্ৰহ্মা তবে হংসপৃষ্ঠে করি আরোহণ। ক্ষীরোদ সাগরে যান লয়ে দেবগণ॥ সাগরের তীরে

নী ভব করে সুরগণ। স্তবে তুষ্ট হইলেন দেব নারায়ণ কিবা হেতু করেছ হেথায় আগমন

বলিলেন প্রভু করি নিবেদন শিববরে বলীয়ান হয়ে কংসাসুর। পৃথিবীরে দেয় সদা যাতনাপ্রচুর ৷ মহেশ্বর দিল বর ভাগিনার হাতে৷ নিধন হইবে কংস নহে অন্য হ'তে |। দৈবকী উদরে জন্ম করিয়া গ্রহণ। পৃথিবীর দুঃখ দশা করুন মোচন। নারায়ণ বলিলেন দেব মহেশ্বর। পা্ব্বতীকে সাথে দেন একটি বৎসর। কার্য্য শেষে পুনরায় চলিয়া। এত বলি উমা রমা সাথেতে লইয়া ৷ মথুরা উদ্দেশে যাত্রা করি নারায়ণ। দৈবকী উদরে জন্ম করিলা গ্রহণ। । ভাদ্র মাস কৃষ্ণপক্ষ অষ্টমী তিথিতে। বুধবার রোহিণী নক্ষত্র নিশার্দ্ধেতে | সর্ব্বদিক আলোকিত করিয়া শ্রীহরি। ধরাধামে অবতীর্ণ শিশুরূপ ধরি। । কেমনে রক্ষিব প্রভু কংস হাত হতে। ভাবিয়া উপায় মোরা নাহি পাই চিতে || অন্তৰ্য্যামী নারায়ণ অস্তরে পরিধান ত্যাজি প্রভু দ্বিভুজ হইল। । অনস্তর ভগবান হরির কৃপায়। বাসুদেব শৃঙ্খল হইতে মুক্তি পায়। মায়াময় শ্রীহরির আশ্চৰ্য্য মায়াতে রক্ষীগণ অচেতন হইল নিদ্রাতে |। যে সময়ে ভগবান আবির্ভূত হ’ন যশোদা গর্ভেতে যোগমায়া ব্রজে জন্মল’ন। অতঃপর ভগবান কন বসুদেবে। নন্দালয়ে তীরে রাখিআসিতে হইবে৷ নন্দ-কন্যা যোগমায়া শ্রীভগবতীকে। আনায়ন করিয়া দিবেন দৈবকীকে। । যেইকালে বসুদেব গমন করিল। কারাগৃহে লৌহদ্বার মুক্ত হয়ে গেল! মন্দ মন্দ মেঘগণ করয়ে গর্জ্জন্‌। মৃদুমন্দ বৃষ্টিধারা হতেছে পতন। । স্বয়ং অনস্তদেব সর্পরূপ ধরি। বারি নিবারণ জন্য কৃষ্ণ শীর্ষোপরি। । ছত্রের মতন্‌ ফণা করিয়া ধারণ শ্রীবসুদেবের সাথে তিনি করেন গমন || এইভাবে বসুদেব যাইতে লাগিল। যমুনার তটে কাদিতে লাগিল। নারায়ণ অস্তরে || দেখিতে দেখিতে জল আসিল কমিয়া। শিবারূপে পার হয়ে যান মহামায়া। । শিবার পশ্চাৎ ধরি বসুদেব যান। মায়া করি বারি মধ্যে পড়ে ভগবান। । বসুদেব কাঁদে পুনঃ শিরে হাত দিয়া। জলক্রীড়া করে কৃষ্ণ যমুনা লইয়া ৷৷ যমুনার পূরে সাধ কৃষ্ণকে পাইয়া। কিছুক্ষণ পরে কৃষ্ণ উঠিল ভাসিয়া। । সানন্দেতে বসুদেব তুলি নিয়া কোলে। যমুনা হইয়া পার আসিল গোকুলে অনন্তর বসুদেব, আসি নন্দালয়ে। যশোদা নিকটে দেখে কন্যা আছে শুয়ে ৷৷ মহামায়া প্রভাবেতে গোপ-গোপী যত। কেহ কিছু নাহি জানে সবে নিদ্রাগত ৷ যশোদাও পুত্র কন্যা কিছু না বুঝেছে। জানে কোন দেবরূপী জনম লভেছে। । যোগমায়ারূপী কন্যা দৈবকীকে দিয়া। বন্ধন স্থানেতে বসু আসিল চলিয়া ৷৷ যোগমায়া প্রভাবে পুনঃ বন্ধন ঘটিল। কারাগুহ পুনরায় আবদ্ধ হইল ৷৷ মহামায়া সদ্যজাতা শিশুর মতন | ক্রন্দন করিবামাত্র জাগে রক্ষীগণ। এক রক্ষী কংসপাশে করিয়া গমন। দৈবকী প্রসবে শিশু করে নিবেদন বিদিত হইয়া কংস আসি কারালয়ে। দেখিল দৈবকী কোলে কন্যা আছে শুয়ে || ক্রোধে কংস ধরিবারে উদ্যত শিশুরে। দৈবকী কন্যাকে হৃদে জড়াইয়া ধরে। । অক্রসিক্ত আঁখি নিয়ে বলে বারে বার। প্রাণভিক্ষা দাও রাজা কন্যারে আমার। । না শুনিয়া তার কথা পাপরূপী কংস। শিশুরে করিতে চায় চিরতরে ধ্বংস॥ ধরিয়া শিশুর পদ উর্দ্ধেতে তুলিল। শিলাপৃষ্ঠ লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করিল। । কিন্তু সেই শিশু-কন্যা কংসহাত হ'তে। আরও উর্দ্ে যায় উঠে না পড়ে শিলাতে। । কন্যা অষ্টভুজা হয়ে মহাদেবীরূপে। বলেন বচন দুরাচার কংস ভূপে॥ দুষ্ট দুরাচার কংস শুনরে বচন। কিবা লাভ হবে বধি আমার জীবন। ॥ । তোর শক্ত যিনি তিনি বালক রূপেতে। দিনে দিনে বদ্ধিত হতেছে গোকুলেতে ৷ অতএব নিৰ্দ্দোষী দৈবকী বসুদেবে। হিংসা করি উভয়েরে কিবা ফল হ’বে। । তারপর অষ্টভূজা মাতা ভগবতী। গেলেন কৈলাস্ধামে যথা পশুপতি | মহামায়া বাক্য কংস করিয়া শ্রবণ। বসু ও দেবকীর করে বন্ধন মোচন তৎপরে কিরূপে শক্ত করি বিনাশন। পরামর্শ করে কংস

লয় মন্ত্রিগণ ৷৷ জন্মাষ্টমী ব্রতকথা হ’ল সমাপন। জয় কৃষ্ণচন্দ্ৰ বলি ডাক সৰ্ব্বজন। । কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বত করে যেই জন।

সকল সদিচ্ছা তার হইবে পূরণ। । রোগ শোক দৃরে যায় শান্তি পায় মনে। জন্মাষ্টসী ব্রতকথা যেই জন শুনে। । হে গোলকপতি

কৃষ্ণ প্রার্থনা চরণে। এ অধমে কৃপা কর আপনার গুণে। ॥ । রামনবমীী ব্রত রামনবমীর দিনে উপবাসী থেকে এই ব্রত করতে হয়। পিতৃপুরুষের তপর্ণ করতে হয়। দশমীর দিন ব্রাহ্মণ ভোজন

করিয়ে ব্রতকথা শুনে পারণ করতে হয়।

ব্রতের দ্রব্য পঞ্চগুড়ি, পঞ্চগব্য, তিল, হরীতকী, ফুল, দুর্বা, তুলসী, বেলপাতা, ফুলমালা, ধূপ, দীপ, ্ দধি,

পৃষ্ঠা 9: রামনবমী ব্রতের সমাপ্তি; রাধাষ্টমী ব্রত

ব্রতকথা--অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র না হওয়ায় খুব দুঃখে ছিলেন। তখন কুলগুরু বশিষ্ঠের উপদেশে

রাজা সনতীক শিবদুরগ মস্ত জপ করতে লাগলেন। রাজার ভক্তিতে সন্ত হয়ে মহাদেব তাকে দেখা দিয়ে পুত্রবর বজ করতে বললেন। দশরথ অনেক চেষ্টা করে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে আনিয়ে যজ্ঞ করালেন। সেই যজ্ঞের চরু খেয়ে কৌশল্যা গর্ভবতী হলেন। তারপর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে, পুনর্বসুনক্ষত্র উদয়কালে, শুভযোগে, শুভলগ্নে ভগবান নারায়ণ রামচন্দ্ররূপে কৌশল্যার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেন। রাজ্যে খুব আনন্দ উৎসব হলো। এই দিনটি খুবই পুণ্যদিন। একেই বলা হয় রামনবমী। রাধাষ্টমী ব্রত

ব্রতের দ্রব্য-শাড়ী, মধুপর্ক বাটি, অন্যান্য যেবে, ধূপ, দীপ, ধুনা, ফুল, তুলসী, দুর্বা, বেলপাতা, দক্ষিণা।

ব্রতের ফল- এই ব্রত করলে নর-নারী সর্বপ্রকার পাপ-মুক্ত হয়।

ব্রতের কথা--খষি শৌনক মহামতি সুতকে জিজ্ঞাসা করলেন -হে সূত! অন্যান্য দেবতাদের উপাসনার চেয়ে

শ্রীকৃষ্ণের আরাধনাই শ্রেষ্ঠ বলে জানি। আরও শুনেছি, তাহাপেক্ষা শ্রীমতী রাধা আরাধনা অধিকতর পুণ্যপ্রদ ও শ্রেষ্ঠ। অতএব শ্রীরাধার অর্চনা বিষয়ে কোনও ব্রতাদির কথা বলুন। তালম-- বগ দিনত গোর বা রঙ ত মান যায কুকের

নিকটে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন--ভগবন্‌। আপনার শ্রীমুখে অনেক ব্রতের কথা শুনেছি, এখন শ্রীমতী রাধিকার

জন্মদিনের ব্রত শুনতে ইচ্ছা করি। শ্ৰীকৃষ্ণ বললেন-দেবর্ষি! তুমি আমার পরম ভক্ত। সেজন্য তোমার কাছে বলছি, শ্রবণ কর। কোনও এক সময় সূর্যদেব ত্রিলোক ভ্রমণ করতে করতে নানাধকার এয দেখে মনে মনে তপস্যার সঙ্কল্প করে, মন্দর পর্বতের গুহায় কঠোর তপস্যা আরস্ত করলেন। এইরূপে দীর্ঘদিন গত হলো। সূর্যের কঠোর তপস্যা আর পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় দেবতারা ভীত হলেন। ইন্দ্র দেবগণসহ আমার কাছে এসে সবকথা বলতে, আমি বললাম, দেবগণ ৷ সূর্য থেকে তোমাদের কোনও ভয় নাই। তোমরা নিজ নিজ স্থানে যাও। আমি সূর্যদেবকে তপস্যা থেকে ক্ষান্ত করবো। তারপর আমি সূর্যের কাছে গেলাম। সূর্য আমাকে দেখে খুবআনন্দিতহলেন। তিনিবললেন-হে শ্রীহরি! আপনার দৰ্শন পেয়ে আমার জন্ম ও তপস্যা সার্থক হলো। যিনি সৃষ্টি স্থিতি সংহার কর্তা, বহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর যীকে সবসময় চিন্তা আমি সন্তুষ্ট হয়ে সূর্যকে বললাম--হে দিবাকর। তুমি তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছ। এখন বর প্রার্থনা কর। তুমি আমার পরম ভক্ত, সেজন্যই তোমাকে দর্শন দিলাম। এই কথা শুনে সূর্য বললেন--আমাকে একটি গুণবতী কন্যারববর দিন। আপনি চিরদিন সেই কন্যাটির থাকবেন। এছাড়া আমার আর কোনও ইচ্ছা নাই।

আমিতথাস্তবলে তাকে বললাম--এই ত্রিলোকে আমি একমাত্র শ্রীরাধিকারই বশীভূত শ্রীমতী রাধা এবং আমাতে

কোনও প্রভেদ নাই। আমি পৃথিবীর ভার লাঘবের জন্য বৃন্দাবনে নন্দালয়ে অবতীর্ণ হবো। তুমিও সেখানে বৃষভানু নামে তারপর শ্রীহরি মথুরায় জন্মগ্রহণ করে নন্দালয়ে এলেন। সূর্যদেব বৈশ্যকুলে জন্মগ্রহণ করে বৃষভানু রাজা হলেন। গোণকনাকীতিসারসালতার বযাহহালা রকারেতারয়ালের তরুণরা তির বরা কর রে কীতিয়র গর্ভে শ্রীমতী রাধিকা জন্মগ্রহণ করলেন। গোপ-গোপীরা আনন্দোৎসবে মেতে উঠলো। আমার মায়ায় মুগ্ধ হয়ে রাধিকা আমাকেই পতিত্বে বরণ করতে ইচ্ছা করলেন। যথাকালে আয়ান ঘোষের সঙ্গে শ্রীরাধার বিবাহ হলো বটে, কিন্তু আমাকে পরম পুরুষজ্ঞানে আমার সঙ্গে বিহার করতে লাগলেন। শ্রীমতী রাধার এই জন্মদিনে গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও বসন-ভূষণ দ্বারা শ্রীমতী রাধার পূজা করে, নানাপ্রকার মহোৎসব, ক্রীড়া কৌতুকাদি করতে হয়। রাধার সখীবৃন্দ, গোপিকাবৃন্দ, কীর্তিদা, বৃষভানু, প্রভৃতিরও

পূজা করতে হয়। তারপর ব্রতকথা শুনে সেদিন উপবাসী থেকে পরদিন বৈষ্ণবদের সঙ্গে পারণ করতে হয়। রাধা নামের

সঙ্গে কৃষ্ণ নাম যোগ করে জপ করলে যাবতীয় মন্ত্র জপের ফল লাভ হয়। তপ-জপে আমার যেমন সন্তোষ জন্রে,

একবার রাধানাম উচ্চারণ করলে তার চেয়ে সহস্রগুণ বেশী আমি সন্তোষ লাভ করি। এই ব্রতের অনুষ্ঠানে সর্বদুঃখ দূর হয় ও পরম শাস্তিলাভ হয়। ধনৈশ্বর্যে গৃহ পূর্ণ হয় এবং সর্বস্থানে বিজয় লাভ হয়।

ভক্তের কাছে এই ব্রতের কথা বললে সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়, কিন্তু ভণ্ড, পাষণ্ড, নাস্তিকের কাছে প্রকাশ করলে

অমঙ্গল হয়! শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই কথা শুনে নারদ মর্ত্যে এই ব্রত প্রচার করলেন আর নিজেও ব্রতপালন করলেন। LD) সংন্গ ভারত সরকার প্রদত্ত রেজিস্টার্ড 8) চিহ্ন দেখিয়া কিন্তুন

ব্রত পালনের আগে